স্ত্রী কি স্বামীকে তালাক দিতে পারবে || মেয়েরা কি তালাক দিতে পারে ইসলাম কি বলে

স্ত্রী কি স্বামীকে তালাক দিতে পারবে || মেয়েরা কি তালাক দিতে পারে ইসলাম কি বলে

স্ত্রী স্বামীকে ডিভোর্স বা তালাক দিতে পারে না কেন? ইসলাম কি বলে স্ত্রী কিভাবে স্বামীকে তালাক দিবে স্ত্রী কর্তৃক তালাক ইসলাম কি বলে একজন স্ত্রী যখন ইচ্ছা তখন স্বামীকে তালাক দিতে পারেন না। মুসলিম আইনে স্বামীকে তালাক দেয়ার ক্ষেত্রে স্ত্রী সীমিত অধিকার ভোগ করেন। নিম্নে লিখিত যেকোন উপায়ে একজন স্ত্রী তালাক সম্পন্ন করতে পারেন। ক. খুলা-র মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন। খ. স্বামী-স্ত্রী দুজনই মুবারাতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন। গ. তালাক-ই-তৌফিজ এর মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন। ঘ. স্ত্রী আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন। ক) খুলা-র মাধ্যমে বিচ্ছেদঃ- যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক বনিবনা ভাল না থাকে, তবে স্ত্রী অর্থ বা সম্পত্তির বিনিময়ে স্বামীকে বিচ্ছেদ ঘটাতে রাজী করাতে পারে। যেহেতু অধিকাংশ নারীর সম্পত্তি থাকে না অথবা সম্পত্তি থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা থাকে না, সেক্ষেত্রে স্ত্রী মোহরানা বা মোহরানার অংশ দিয়ে স্বামীকে তালাক দিতে রাজী করানোর চেষ্টা করতে পারেন। খ) স্বামী-স্ত্রী দুজনই মুবারাতের মাধ্যমে বিচ্ছেদঃ- যে ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী, উভয়ই একে অন্যের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন এবং তাঁরা চুক্তির মাধ্যমে তাঁদের বিয়ের বিচ্ছেদ ঘটান, তখন বলা মোবারাত। খুলার মত মোবারাতও এক ধরণের চুক্তি-ভিত্তিক বিবাহবিচ্ছেদ। গ) তালাক-ই-তৌফিজ এবং কাবিননামার ১৮ নং কলাম মাধ্যমে তালাকঃ- তালাক-ই-তৌফিজ স্ত্রীর নিজস্ব ক্ষমতা নয়। স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা দেয়, তবে স্ত্রীও স্বামীর মতো তালাক দিতে পারে। সেক্ষেত্রে স্ত্রীকেও স্বামীর মতো তালাকের নোটিশ চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাতে এবং এক কপি স্বামীর কাছে পাঠাতে হবে। স্ত্রীর এই তালাক দেওয়ার ক্ষমতাকে তালাক-ই-তৌফিজ বলে। নিকাহনামা/কাবিননামার ১৮ নং ঘরে “স্বামী স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করছে কি না? করে থাকলে কী শর্তে?” এই প্রশ্নটি থাকে। স্বামীর একতরফা ক্ষমতার কারণে স্ত্রীকে বহু নির্যাতন সহ্য করেও স্বামীর সাথে থাকতে হয়। ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইনে বর্ণিত শর্তগুলো (যেমন, নির্যাতন, নিরুদ্দেশ) না থাকলে বা খুলা কিংবা মুবারাতের মাধ্যমে হুলার স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছেদ না পেলে একটি মেয়ের পক্ষে বিয়ে থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব। সেক্ষেত্রে স্ত্রী অপেক্ষাকৃত কম জটিলতায় তালাক-ই-তৌফিজের মাধ্যমে মুক্তি পেতে পারে। তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম। স্বামী স্বেচ্ছায় রাজি না থাকলে এই প্রক্রিয়ায়ও বিয়ে ছিন্ন করা সম্ভব হয়না। শেষ ভরসা হল আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করা। কিন্তু আইনে উল্লেখিত ঘটনা না ঘটলে বা নির্দিষ্ট শর্তসমূহ পূরণ না হলে এই প্রক্রিয়ায় ও বিবাহ বিচ্ছেদ অসম্ভব। তাছাড়া বাংলাদেশের সমাজ বাস্তবতায় আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ একজন নারীর জন্য সময় এবং অর্থ সাপেক্ষ। এছাড়া সামাজিক অপমানবোধের ব্যাপার তো রয়েছেই। তাই কাবিননামার ১৮ নং কলামে টিক চিহ্ন দিয়ে তালাক-ই-তৌফিজের অধিকার নিশ্চিত করা প্রতিটি মেয়ের জন্য অবশ্য কর্তব্য। অভিভাবকদের সচেতনতাও এক্ষেত্রে খুব জরুরী। আর কাজীদের অবশ্যই দুপক্ষকে দিয়ে ঘরটি সম্পর্কে অবগত করানো উচিত। কোন বিয়ে বা তালাক রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হবার পর নিকাহ রেজিস্ট্রার সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে নিকাহনামা বা তালাকনামার সত্যায়িত প্রতিলিপি প্রদান করবেন এবং ঐরূপ সত্যায়িত প্রতিলিপির জন্য কোন ফি আদায় করা যাবে না (ধারা-৯)৷ তালাক রোধে চেয়ারম্যানের দায়িত্বঃ- অনেক সময় দেখা যায়,মানুষ রাগের মাথায় অথবা আবেগের বশবর্তী হয়ে তালাক দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়৷ পরে তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারে। কিন্তু তখন কি করবে তা বুঝে উঠতে পারে না। এক্ষেত্রে যদি চেয়ারম্যান সালিসীর মাধ্যমে উভয় পক্ষকে ডেকে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার দ্বারা তাদের মধ্যে পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করে দেন তবে দু’পক্ষেরই ভালো হয়। এজন্য বলা হয় তালাক রোধে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও গুরুত্ব অপরিসীম।