কার্তিককে কেন অগ্নিকুমার বলা হয় । কার্তিককে কেন দেবসেনাপতি করা হলো?

কার্তিককে কেন অগ্নিকুমার বলা হয় । কার্তিককে কেন দেবসেনাপতি করা হলো?

কার্তিককে কেন অগ্নিকুমার বলা হয় । কার্তিককে কেন দেবসেনাপতি করা হলো? Why Kartika called Agnikumar | Why Kartika appointed as the commander of the gods অগ্নিকুমার: দেব সেনাপতি কার্তিকেয়র পূর্বনাম ছিলো অগ্নিকুমার। কার্তিকেয় কিভাবে অগ্নিকুমার থেকে কার্তিকেয় হলেন, কেনই বা তার নাম অগ্নিকুমার ছিলো তা আমরা জানবো এই ভিডিওতে। অগ্নিকুমার বা কার্তিকেয়র পিতা ছিলেন অগ্নিদেব। যদিও কোনো কোনো উপাখ্যানমতে মহাবেদ বা শিবকে কার্তিকের পিতা বলা হয়। কিন্তু সে বিষয়ে আমরা ভিডিওর শেষের দিকে আলোচনা করবো। যা হোক, অগ্নিদেবের স্ত্রী ছিলেন স্বাহা। একদা অগ্নিদেব সপ্তর্ষি বা পৌরাণিক সাত প্রধান ঋষির স্ত্রীদেরকে দেখে মোহিত হয়ে পড়েন। অগ্নিদেবের স্ত্রী স্বাহা বিষয়টা জানতে পেরে অঙ্গিরার স্ত্রী শিবার রূপ ধারণ করে অগ্নিদেবের সাথে মিলিত হন। তাদের মিলনের ফলে যে রেত উৎপন্ন হয় তা একটি স্বর্ণ গোলকের উপর পতিত হয়। কিন্তু অগ্নিদেব এতে তৃপ্ত হলেন না। এ কারণে স্বাহা একে একে অন্য ঋঝিদের অর্থ্যাৎ ঋঝি মারীচি, ঋঝি আত্রি, ঋঝি পুলস্ত্য, ঋঝি পুলহ, এবং ঋঝি ক্রতুর স্ত্রীর রূপ ধারণ করে অগ্নিদেবের সাথে মিলিত হন। কিন্তু তিনি বশিষ্ঠের স্ত্রী অরুন্ধতীর রূপ ধারণ করতে পারলেন না। কারণ অরুন্ধতী তখন তপস্যায় রত ছিলেন। আর তার তপস্যার প্রভাবে স্বাহা তার রূপ ধারণ করতে ব্যর্থ হলেন। এদিকে প্রতিবার মিলনের ফলে উৎপন্ন রেত গিয়ে ঐ একই স্বর্ণ গোলকের উপর পতিত হয়। সেই সম্মিলিত রেত থেকে ছয় মাথা বিশিষ্ট এক পুত্রের জন্ম হলো। অগ্নির শুক্র থেকে এর জন্ম বিধায় এর নাম হলো অগ্নিকুমার। একে স্কন্দও বলা হয়। ঘটনাচক্রে দেবরাজ ইন্দ্র অগ্নিকুমার বা স্কন্দকে বিনাশ করার জন্য সদলবলে তার সাথে লড়াই শুরু করেন। কিন্তু অগ্নিকুমার তার মুখনিসৃত অগ্নিশিখায় দেব সৈন্যদের দগ্ধ করে ফেললেন। তা দেখে ইন্দ্র তার বজ্র নিক্ষেপ করেন। এতে অগ্নিকুমারের দক্ষিণপার্শ্ব বিদীর্ণ হয়ে এক কাঞ্চণবর্ণ যুবরাজের আবির্ভাব হয়। এই যুবকই কার্তিকেয়। এ ঘটনায় ভীত হয়ে ইন্দ্র কার্তিকেয়কে দেব সেনাপতি পদে বরণ করে নেন। ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ মতে, মহাদেব শিবই কার্তিকেয় তথা অগ্নিকুমারের পিতা আর পার্বতীই তার মাতা। এই উপাখ্যান মতে, পার্বতীর সাথে মিলনের ফলে শিবের রেত পৃথিবীতে পতিত হয়। পৃথিবী এই রেত ধারণে অক্ষম হয়ে তা অগ্নিতে নিক্ষেপ করে। অগ্নি ভয়ে তা শরবনে ত্যাগ করেন। শরবনে এই রেত থেকে সুন্দর এক বালকের সৃষ্টি হয়। অগ্নির মধ্যে দিয়ে মহাদেবের রেত প্রবাহিত হয়েছিলো বলে এই পুত্রের এক নাম অগ্নিকুমার। পরে অবশ্য কৃত্তিকা নামক নারীকূল এই বালককে স্তন্যদান ও লালন পালন করেছিলেন বলে এর নাম হয় কার্তিকেয়। কোনো কোনো উপাখ্যান মতে, মহাদেব শিব তারকাসুর বধের জন্য অগ্নির শরীরে প্রবেশ করে কার্তিকেয়র জন্ম দিয়েছিলেন। সেজন্য মহাদবেকে ‘অগ্নি’ এবং কার্তিকেয়কে ‘অগ্নিকুমার’ বলা হয়। কারো কারো মতে, শিব নিজ বীর্য অগ্নিতে নিক্ষেপ করে অগ্নিকুমারকে উৎপন্ন করেন।