বিষয় : জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত, আল্লাহতালা কসম করে বলেছেন আলোচক : মুফতী মুজীবুর রহমান সাভার। ০১৭১০-৯৭৪০৬৮ ইমাম ও খতীব, সিআরপি জামে মসজিদ, সাভার, ঢাকা ভিডিওটি ভালো লাগলে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করবেন শেয়ার করবেন দ্বীন প্রচারে সাহায্য করবেন। #কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে বলবেন অথবা ফোন নাম্বারে কল দেবেন। **আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘এমন কোনো দিন নেই, যার আমল জিলহজ থেকে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! (সা.) আল্লাহর পথে সংগ্রাম-জিহাদও নয়? জবাবে রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে যুদ্ধে বের হলো এবং এর কোনো কিছু নিয়েই ফিরে না এলো, (অর্থাৎ যে শাহাদাত বরণ করেছেন) তার কথা ভিন্ন।’ (বুখারি, হাদিস : ৯৬৯) অপর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘পৃথিবীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দশকের দিনগুলো। অর্থাৎ জিলহজের প্রথম দশ দিন। জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর পথে জিহাদেও কি এরচেয়ে উত্তম দিন নেই? রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদেও এরচেয়ে উত্তম দিন নেই। তবে হ্যাঁ, কেবল সে-ই যে (জিহাদে) তার চেহারাকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে।’ (মুসনাদে আবি ই’য়ালা, হাদিস : ২০৯০) প্রথমত আল্লাহতায়ালার কাছে প্রত্যেকটা দিনই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা তিনিই তো এই দিন-রাতের স্রষ্টা। দিন-রাত প্রত্যেকটিকেই তিনি অনন্য গুণে গুণান্বিত করেছেন। তবে এই দিনগুলোতে যেহেতু সবগুলো মৌলিক ইবাদতের সমাবেশ ঘটে, সেহেতু এ দিনগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব অন্যান্য দিনের চেয়ে অধিক হওয়াই যুক্তিসংগত। যেমনটা প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানি (রহ.) তার বুখারি শরিফের ব্যখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারিতে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘জিলহজের দশকের বৈশিষ্ট্য ও কারণ যা প্রতীয়মান হয়, তা হলো এতে সব মৌলিক ইবাদতের সন্নিবেশ ঘটে। যেমন- সালাত, সিয়াম, সদকা, হজ ইত্যাদি। অন্য কোনো দিন এতগুলো ইবাদতের সমাবেশ ঘটে না। (ফাতহুল বারি : ২/৪৬০) রোজার সওয়াব❤️ এই গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো আমাদের জন্য অতীব জরুরি। জাগতিক পরীক্ষার দিনগুলোতে যদি সবচেয়ে ভালো ফলাফল অর্জন করার লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে পারি; তবে কেন আখেরাতের পরীক্ষার জন্য এমন মাহাত্ম্যপূর্ণ দিনগুলোতে সর্বাধিক প্রচেষ্টা করতে পারব না? এ দিনগুলোতে আমল করার সওয়াব তো বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক অনেক বেশি। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জিলহজের দশ দিনের ইবাদত আল্লাহর কাছে অন্যান্য দিনের ইবাদতের তুলনায় বেশি প্রিয়। এ মাসের প্রত্যেক দিনের রোজা এক বছরের রোজার মতো, আর প্রত্যেক রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের মতো।’ (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ৭৫৮) আসুন! মাহাত্ম্যপূর্ণ এই দিনগুলোতে কী কী নেক আমল করা প্রয়োজন তা জেনে নিই নফল ইবাদত❤️ জিলহজ মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে দশ তারিখ পর্যন্ত যতদিন সম্ভব নফল রোজা রাখা আর রাতের বেলা বেশি বেশি ইবাদত করা একজন সত্যিকার মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তাই এই দিনগুলোতে নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইস্তিগফার ও ক্ষমা-প্রার্থনা এবং কান্নাকাটির মাধ্যমে রাত কাটানো কিংবা যতটুকু সম্ভব ইবাদত করা উচিত। পুরো নয়দিন রোজা না রাখতে পারলেও আরাফার দিনে রোজা রাখা খুবই উত্তম। আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, এ রোজা তার আগের ও পরের বছরের গুনাহ মুছে ফেলবে।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৭৪০) আরাফার দিনের আরেকটি আমল হলো- নিম্নোক্ত কালিমাটি বেশি বেশি পড়া। কালিমাটি হলো- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু বিয়াদিহিল খাইরু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদির।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৬৯২২)