আপনারা নিশ্চয়ই প্রতারক সম্রাট সাহেদের কথা শুনেছেন। আজ আপনারা দেখবেন একজন নতুন প্রতারককে যিনি আইন বিষয়ে পড়ালেখা না করেই নিজের নামের সাথে লাগিয়েছেন ব্যারিস্টারি ডিগ্রী। পরিচয় দেন জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ নামক ভুঁইফোড় ও মনগড়া সংগঠনের সাধারন সম্পাদকের। ভুয়া ব্যারিস্টার ও জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ নামক ভুঁইফোড় ও মনগড়া সংগঠনের সাধারন সম্পাদক এই দুই ভুয়া পরিচয়কে পুজি করে সারা দেশে বিছিয়েছেন প্রতারনার জাল। চাকরি দেওয়া, বদলি, পদোন্নতি, সরকারী কন্ট্রাক্ট পাইয়ে দেওয়া সহ বিভিন্ন কাজের কথা বলে আত্মসাৎ করেছেন কোটি কোটি টাকা। এই প্রতারকের প্রতারণার জালে আটকা পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব অনেক পরিবার। এসব কর্মকাণ্ডে সহযোগী হিসেবে তার ছোট ভাইসহ একটি সিন্ডিকেট কাজ করতেন। কথিত এই নেতা পরিচয়ধারী ও ভুয়া ব্যারিস্টার বর্তমানে লোকচক্ষুর আড়ালে গা ঢাকা দিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা যায় বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার বড় রঘুনাথপুর গ্রামের মোঃ হাবিবুর রহমান মাস্টারের ছেলে এই প্রতারক প্রিন্স কামরান ওরফে ব্যারিস্টার প্রিন্স ইলাহী। এসএসসি এইচএসসির সনদ, জাতীয় পরিচয় পত্র ও পাসপোর্ট অনুযায়ী এই প্রতারকের নাম প্রিন্স কামরান হলেও প্রতারনার জন্য এই প্রতারক তার নাম প্রিন্স ইলাহী হিসেবে ব্যবহার করতেন। ২০০২ সালে জিপিএ তিন দশমিক এক তিন পেয়ে এসএসসিতে ও দুইদুইবার ফেল করে তৃতীয় বারে ২০০৬ সালে জিপিএ তিন দশমিক এক শূন্য পেয়ে এইচএসসি পাস করা এই প্রতারক নিজেকে ব্যারিস্টার বলে প্রচার করতেন। ব্যারিস্টারি করার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে বাধ্যতামূলক ভাবে পড়ালেখা করা লাগলেও এই প্রতারকের পাসপোর্ট বিদেশ গমনের কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্যের বার কাউন্সিলে ইমেইল করে এই প্রতারকের ব্যারিস্টারির সত্যতা জানতে চাইলে তারা জানিয়ে দেন প্রিন্স ইলাহী নামে কেউ যুক্তরাজ্যে ব্যারিস্টারি পড়েনি। ইমেইলের রিপ্লাইতে যুক্তরাজ্যের বার কাউন্সিল জানান- I confirm that we have no record of a barrister by the name of Prince Kamran as a barrister of England and Wales এমনকি যুক্তরাজ্যের চারটি ইনস অব কোর্টে আলাদা আলাদা ইমেইল দিয়েও তার মেম্বারশিপের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। মুলত তার প্রতারনার রাস্তা সহজ করার জন্যই তিনি ভুয়া ব্যারিস্টার পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন। এভাবে আইন বিষয়ে পড়ালেখা না করেই নামের সাথে ব্যারিস্টার লাগিয়ে করেছেন প্রতারনা, অংশ নিয়েছে বিভিন্ন সভা, সেমিনারে এমনকি বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেস্ট ও নিয়েছেন। এই প্রতারক ফেসবুকে একাধিক একাউন্টে ব্যারিস্টার পরিচয় দিয়ে ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদস্থ ব্যক্তিদের সাথে সুকৌশলে ছবি তুলে তা ফেসবুকে দিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করে প্রতারনা করতেন। এসকল ছবি গ্রামের সহজ সরল মানুষকে দেখিয়ে উপর মহলে তার ক্ষমতার জানান দিতো, অতঃপর চাকুরি দেয়ার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছেন লখ লখ টাকা। ভুয়া ব্যারিস্টারির পাশাপাশি প্রতারনার রাস্তা সহজ করতে নিজেকে জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের সাধারন সম্পাদক দাবি করলেও এই নামে কোন সংগঠনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ১৮ই আগস্ট ২০১৯ তারিখে একটি অনলাইন পোর্টালের প্রকাশিত সংবাদে প্রিন্স ইলাহীর কমিটিকে অবৈধ হিসেবে দাবি করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায় একাধিক ব্যক্তি এই জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ নামে সংগঠন খুলে একে অন্যের কমিটিকে অবৈধ হিসেবে মন্তব্য করলেও মূলত এই সকল কমিটিই অননুমোদিত ও অবৈধ। আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মূল সংগঠন আওয়ামিলীগের সহযোগী ৮ টি সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ৩ টি ছাড়া আর কোন অনুমোদিত সংগঠন নেই। প্রতারকেরা প্রতারণা করার জন্য এ রকম সংগঠনের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ সকল ভুঁইফোড় সংগঠন সম্পর্কে বিবিসি বাংলাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন- "বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নাম বা ছবি ব্যবহার করে কোন রাজনৈতিক দোকান খোলা যাবেনা" এ সকল ভুঁইফোড় ও অবৈধ সংগঠন সম্পর্কে হুশিয়ারি দিয়ে আওয়ামিলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও সংসদ সদস্য জনাব মাহবুব উল আলম হানিফ বিবিসি বাংলাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন " ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে ফায়দা লোটা যায় এমন অনৈতিক চিন্তা থেকেই এসব সংগঠন তৈরী হয়। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার" অথচ এই ভুয়া সংগঠনের কমিটি দেয়ার নামেই প্রতারক প্রিন্স কামরান কামিয়ে নিয়েছেন নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এই সকল টাকা সংগ্রহের পথ সহজ করার জন্য তার আপন ছোট ভাই মোঃ সজলকে উক্ত সংগঠনের অর্থ সম্পাদকের পদেও দেখিয়েছেন। এভাবেই ভুয়া ব্যারিস্টার ও উক্ত ভুয়া সংগঠনের পরিচিয় দিয়ে সাধারন মানুষকে প্ররোচিত করে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের মামলা ও হামলার হুমকি দিচ্ছে উক্ত প্রতারক। ভুক্তভোগীরা বাধ্য হয়ে উক্ত প্রতারকের বাবা হাবিবুর রহমানের কাছে গেলে তিনি তাদেরকে হুমকি প্রদান করেন ও মানহানি মামলার ভয় দেখিয়ে অপমান করে বাসা থেকে বের করে দেন। এসকল কামরানরা আমাদের সমাজের কিট। প্রতারকদের কোন দল নেই। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে এরা তাদের লেবাস লাগিয়ে প্রতারনার সুযোগ নেয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকতা, এমপি, মন্ত্রী এমনি প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যাবহার করেও এরা প্রতারনা করে থাকে। এদেরকে রুখতে ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতন হতে হবে। ফেসবুকে ছবি দেখে বা এদের মুখরোচক কথা শুনে এদের ফাদে পা দেয়া যাবেনা। আজ এ পর্যন্ত সমাজের বিভিন্ন অপরাধের তথ্য নিয়ে দেখা হবে অন্য কোন পর্বে, সে পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।