সফল হওয়ার জন্য যেভাবে লেগে থাকতে হবে |Bangla motivational video| বাংলা অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও।

সফল হওয়ার জন্য যেভাবে লেগে থাকতে হবে |Bangla motivational video| বাংলা অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও।

Emran Hossen Sumon. আমাদের ফেইসবুক পেইজ লিংক -   / sumon.emranhossen   এক ওভার বল করে কেউ বোলার হয় না। এক বেলা রান্না করে কেউ বাবুর্চি হয় না। একদিন ঘাস খেতে দিয়ে, গরুর কাছে সারা বছর দুধ আশা করা যায় না। অথচ তুমি একরাত পড়েই পাশ করে ফেলতে চাও? দিনে এক ঘন্টা সময় না দিয়েই, এক একটা সাবজেক্টের সবকিছু বুঝে ফেলতে চাও? সারা বছর ফাঁকিবাজি করেও ভালো ভার্সিটিতে চান্স পেতে চাও? শুনো, বৃষ্টি একদিন হলে তাকে বর্ষাকাল বলে না। অফিসে দুইদিন হাজিরা দিলে, সারা মাসের বেতন পাওয়া যায় না। বেতন পেতে হলে অফিসের কাজ প্রতিদিন করতে হবে। বোলার হতে হলে ম্যাচের পর ম্যাচ বল করে যেতে হবে। অথচ, আমরা বোলিং ছেড়ে দিয়ে, পিচের উপর দোষারোপ করি। ঘাস খেতে না দিয়ে, গরুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনি। ঠিক জায়গায় ময়লা না ফেলে, এলাকা নোংরা বলি। সেজন্যই বইখাতাকে চিমটি না কেটে, মনোযোগ আসে না, বুঝতে পারিনা, ভালো লাগে না, এসব অজুহাত পেশ করি। তারপর জ্যামে আটকা পড়ে, বিরক্ত হয়ে পকেট থেকে মোবাইল বের করে ফেইসবুকিং করি কিন্তু ব্যাগ থেকে বই বের করে এক মিনিটও পড়ার ইচ্ছা করি না। পাঁচ মিনিট পর পর খেলার আপডেট বন্ধুকে জিজ্ঞেস করতে পারি, কিন্তু সূত্রের প্রমাণটা একটু বুঝিয়ে দিতে বলতে পারি না। ইউটিউবে সারাদিন গান শুনতে পারি কিন্তু পড়াশোনার দুই-একটা ভিডিওতে ক্লিক করতে পারি না। দিনে ২৫০বার মোবাইল চেক করার নেশা ধরিয়ে দিয়ে, গড়ে প্রতিদিন সাড়ে চার ঘন্টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যয় করিয়ে, ফ্রি নিউজ, মজার ট্রেলার দেখিয়ে তোমাকে আনন্দ দিচ্ছে না। তোমার সময় কেড়ে নিচ্ছে। তোমার স্বপ্নটা হাতছাড়া করে দিচ্ছে। ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথেই নোটিফিকেশন দিয়ে ওদের পথে ডেকে নিচ্ছে। একটা ভিডিও দেখলে আরো দশটা রিকমেন্ড দিচ্ছে। দিনে দিনে তথ্য-প্রযুক্তি যত সহজলভ্য হচ্ছে, মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাওয়া তত ইজি হচ্ছে। কানেক্টেড থাকার নাম করে, সময় নষ্ট করার নেশা ধরিয়ে দিয়ে, স্বপ্নগুলিকে গলা টিপে হত্যা করছে। এখন টিকে থাকতে হলে- নেশা আর ইচ্ছার মধ্যে ছোট্ট একটা সংগ্রাম চালাতে হবে। ফ্রি ফায়ার, পাবজি, ফেইসবুকিং, খেলা দেখার নেশা যখন ডাক দিবে, তখন নেশাটাকে জোর করে পাঁচ মিনিট পিছিয়ে দিতে হবে। নেশা ছাড়বা না। জাস্ট পাঁচ মিনিট পিছিয়ে দিবে। তারপর সেই পাঁচ মিনিটে তোমার ইচ্ছা বা স্বপ্ন রিলেটেড কাজ করবে। এই রকম নেশা আর ইচ্ছার যুদ্ধ এক সপ্তাহ চালিয়ে যদি ৬০% সফল হতে পারলে, তোমার লাইফ আবার লাইনে আসা শুরু হবে। কেউ যদি জিগ্যেস করে, তোমার জীবনের লক্ষ্য কি? গলা হাঁকিয়ে বলে দাও বিজনেস ম্যান, মাল্টি-ন্যাশনালে চাকরি, গাড়ি, বাড়ি, ইত্যাদি। কিন্তু ভুলেও কখনও বলো না তোমার জীবনের লক্ষ্য হচ্ছে- রাত জেগে খেলা দেখা, কে কয়টা গোল করছে তার হিসাব রাখা, ঘন্টার পর ঘন্টা ফেইসবুকের হোমপেইজে স্ক্রল করা। অথচ দিনের পর দিন এই কাজগুলা করেই, স্বপ্ন অর্জন আর বাস্তবতার মধ্যে গ্যাপ বাড়িয়ে নিচ্ছো। সেই গ্যাপ বাড়তে বাড়তে স্বপ্নটা এত দূরে চলে গেছে যে, খালি চোখে আর দেখা যায় না। হাবিজাবি কাজগুলা রেগুলারলি করে যেতে পারলেও, ডেইলি বিশ-পঁচিশ মিনিট সময় ম্যানেজ করতে পারো না। নিজের জন্য, নিজের স্বপ্নের জন্য। . পরিচিত কেউ মারা গেলে, আমরা প্রায়ই বলি, উনি জনপ্রিয় শিক্ষক বা ভালো লিডার কিংবা সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। একবারও কি চিন্তা করে দেখছো? আজকে যদি তুমি মারা যাও, তোমার সম্পর্কে লোকজন কি বলবে? কিংবা এই তুমেই, তোমার মৃত্যুর পর নিজেকে কিভাবে মূল্যায়ন করবে? তুমি কি চাও লোকজন তোমাকে চিনুক- ক্যান্ডি ক্রাশের ১০০ লেভেল পার করে, গেইম অফ থ্রোনের সবগুলা এপিসোড তিনবার করে দেখে, দুনিয়ার সবগুলা ওয়ানডে-টেস্ট ম্যাচের পরিসংখ্যান মুখস্থ করে, তিন চারটা অনলাইন পত্রিকার চিপা-চাপার সব নিউজ জানা সফল মানুষ হিসেবে? নাকি চাও তোমাকে অন্য কিছু হিসেবে চিনুক? সেটাই যদি হয়, সেটার পিছনে কতোটুকু সময় দিচ্ছো? কোন একটা কিছু করতে গেলে, কাজ করার উপায় বের করার আগেই, ছুতার বস্তা নিয়ে বসো। লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে, বছরের পর বছর একই ছুতা দিয়ে, জীবন পার করে দিচ্ছো। আমারে কেউ সুযোগ করে দিচ্ছে না, কম্পিটিশন বেড়ে গেছে, দেশে ভালো মানুষের ভাত নেই,এসব বলে নিজের ভিতরে আক্ষেপ বাড়াচ্ছো। বৃষ্টি বেশি, গরম বেশি, জ্যাম বেশি, পেটের ভিতরে গ্যাস বেশি, বলতে বলতে হাত পা ছেড়ে তুমি যখন হতাশ হয়ে বসে থাকো, সেই একই সময়ে অন্য আরেকজন ঠিকই, শীত-গরম, বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে এগিয়ে যাচ্ছে। ক্লাসে টিচার ভালো পড়াতে পারে না বলে, টিচারের চৌদ্দ গোষ্ঠীকে দশ ঘন্টা গালি দিয়ে তুমি যখন চোয়াল ব্যথা করছো, সেই একই সময়ে আরেকজন গুগলে সার্চ মেরে, লাইব্রেরীতে স্টাডি করে এ প্লাস ঠিকই পেয়ে যাচ্ছে। কেউ না কেউ, কোথাও না কোথাও তোমার চাইতে খারাপ কন্ডিশনে থেকেও তোমকর চাইতে যোজন দুরুত্ব এগিয়ে যাচ্ছে। সঠিক ইচ্ছা, সাধনা আর শ্রম দিয়ে। তোমাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে। সত্যজিৎ চক্রবর্তী #bangla_motivational_Video #bangla_motivational_status #motivation #অনুপ্রেরণামুলক_ভিডিও #মটিভেশনাল_ভিডিও