হিন্দুদের যে কথা জানা উচিত ।। দূর্গা পূজা নিয়ে চ্যালেন্জ করলেন ব্রাদার রাহুল হুসাইন । Rahul hossain

হিন্দুদের যে কথা জানা উচিত ।। দূর্গা পূজা নিয়ে চ্যালেন্জ করলেন ব্রাদার রাহুল হুসাইন । Rahul hossain

হিন্দু দের যে কথা গুলো জানা উচিত ।। দূর্গা পূজা নিয়ে চ্যালেন্জ করলেন ব্রাদার রাহুল হুসাইন ।। সভা শুরু হলো। সদস্যদের প্রায় সবারই মুখ কালো। ব্যাপার কী—জানতে চাইলেন সভাপতি। – পূজার চাঁদা চাইতে গেলে অপমান করে পাড়ার লোকেরা। – অপমান! সে আবার কী? লোকে মন্দ কথা বলেচে, মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিয়েচে, কুকুর লেলিয়ে দিয়েচে। এমনকি পথ চলার সময় বারান্দা থেকে গাছের টব অবধি ছুড়ে মেরেচে—কিন্তু অপমান তো কখনও করেনি। অপমানের সংজ্ঞা নিয়ে পড়া এ কৌতুকটি বহু বছর আগে পড়া। ওপার বাংলার কোনো এক লেখক বারোয়ারি পূজা আয়োজনের পেছনের ছবিটি তুলে ধরেছিলেন। বাংলাদেশে যে ২৮ হাজারেরও বেশি পূজামন্ডপ দেখা যাচ্ছে তার অধিকাংশ বারোয়ারি, অর্থাৎ জনগণের কাছ থেকে চাঁদা তুলে করা হয়। বারোয়ারি শব্দটা এসেছে বারোর সাথে ইয়ারি থেকে। কথিত আছে বারোজন তরুণ ব্রাহ্মণ প্রথম চাঁদা তুলে গণপূজা শুরু করেছিল। এভাবেই ব্যক্তি মালিকানা থেকে পূজা পাড়ার লোকের অংশগ্রহণে আসে। এখন হয়ত অনেকের ভ্রু কুঁচকে আসবে? উপাসনার আবার ব্যক্তি মালিকানা কী? ঈদের দিন তো সবাই ঈদগাহে যায় নামায পড়তে, নামায শেষে কোলাকুলিও করে একে অপরের সাথে। ব্যক্তিগত পূজার ইতিহাসটা বুঝতে হলে একটু ফিরে তাকাতে হবে ইতিহাসের দিকে। দুর্গা পূজা কীভাবে এল? সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলছেন, মূল বাল্মীকির রামায়ণে দুর্গা পূজার কোন অস্তিত্ব আমরা দেখতে পাই না। মধ্য যুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী কবি কৃত্তিবাস ওঝা সংস্কৃত রামায়ণ বাংলা করার সময় মূল রামায়ণের বাইরের তৎলালীন সমাজে প্রচলিত অনেক মিথ, গল্প বাংলা রামায়ণে ইচ্ছাকৃত ভাবে ঢুকিয়ে বাংলা রামায়ণ আরো অধিক সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেন। তাঁর এই অনুবাদকৃত রামায়ণ পরিচিতি পায় কৃত্তিবাসী রামায়ণ নামে। [1] পুরাণমতে দুর্গাপূজা হওয়ার কথা বসন্তকালে কিন্তু কৃত্তিবাসী রামায়ণে রাম অকালে, অর্থাৎ শরৎকালে দেবীর পূজা করেছিল। সেখান থেকেই বর্তমানে চালু শারদীয় দুর্গাপূজার প্রচলন হয়। অথচ বাল্মিকীর মূল রামায়নের দুর্গাপূজার কোনো অস্তিত্বই নেই! দুর্গা পূজার পুরোটাই মানবরচিত। বিভিন্ন আনুষঙ্গিক অসংলগ্ন অঙ্গ দেখলে এটি স্পষ্ট যে, এক দেশে দুর্গাপূজার বিবিধ সংস্কৃতি প্রবর্তিত ও বর্ধিত হয়নি। বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন আচারবিধি বিভিন্ন সময়ে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। [2] ১৭৫৭ সাল। ২৩শে জুন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পলাশীর যুদ্ধে হারিয়েছেন ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানির কর্নেল রবার্ট ক্লাইভ। নতুন রাজা হবেন নবকৃষ্ণ দেব। তিনি তার চার একরের গ্রামের বাড়ির উঠোনে একটি পাকা মন্ডপে প্রথম আয়োজন করলেন দুর্গা পূজার। কিংমেকার ক্লাইভ প্রধান অতিথি। উইলসন হোটেল থেকে গোমাংস আর শুয়োর এল। এল বোতলে বোতলে মদ। তথাকথিত মুসলিম ঘরানা থেকে এল বাঈজিরা। শুরু হলো পূজার উৎসব। ম্লেচ্ছ বা যবনদের ছায়া না মাড়ানো ব্রাহ্মণ পণ্ডিতরা এত সহজে মেনে নিল এত বড় অনাচার? রবার্ট ক্লাইভের সংষ্কৃতি শিক্ষক ছিল জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন, তাকে বেশ মোটা অংকের সম্মানী দিয়ে পুরো পুরোহিতপাড়াকেই ম্যানেজ করে ফেলেন নতুন লর্ড বনে যাওয়া ক্লাইভ বাবু। বাংলার স্বাধীনতা হারানোর সবচেয়ে বড় কুচক্রীদের হাত ধরে ষড়যন্ত্রের সাফল্য উদযাপনেই সূচনা ঘটে আধুনিক দুর্গা পূজার।[3] এমন কী হতে পারে, যে এক কুলাঙ্গার নবকৃষ্ণের জন্য আমরা সবাইকে দুষছি? ব্লগার বিপ্লব পালা জানাচ্ছেন, …এবং এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা না- উনবিংশ শতকে বাবু নবকৃষ্ণের দেখা দেখি সব বাবুর পুজোতেই মদ্যপান, নারী এবং গোমাংস সহযোগে উদ্যোম পার্টি হত সাহেব সুবোদের নিয়ে। দুর্গাপুজোর জনপ্রিয়তার এটাই মূল কারন যে তা বৃটিশদের পিষ্ঠপোষকাতে তাদের উমেদারদের জন্যেই জনপ্রিয় হয়েছে। ১৮৪০ সাল পর্যন্ত এই ট্রাডিশন বজায় ছিল। অনেক সাহেব নিজেরাই পুজো দিতেন-পার্টি দিতেন। শেষে পুজোর সময় বারবণিতা এবং বাইজিদের নিয়ে এত টানাটানি এবং টানাটানি থেকে রেষারেষি, মারামারি হতে লাগল, কোম্পানী আইন করে, বৃটিশদের দুর্গাপুজো থেকে বিরত করে। [4] আরও দেখুন: আল্লাহ তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে আমাদের এই বৃষ্টি দিয়েছেন এভাবেই হঠাৎ ধনী হিন্দু আর ব্রিটিশদের উন্মত্ত পার্টির মাধ্যমে শুরু হয়েছিল কলকাতার দুর্গাপূজাগুলো। সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল না। যখন আস্তে আস্তে কলকাতা গ্রাম থেকে শহর হতে শুরু করল, সেখানে মানুষ বাড়া শুরু করল, সাধারণ মানুষের পূজা করার ইচ্ছেও জাগতে লাগল। কিন্তু শুধু ইচ্ছে থাকলেই তো আর হবে না। পূজা করতে যে ষোলটি[5] উপাচার লাগে, মন্ত্রপড়া বাবদ দক্ষিণা লাগে—তার যোগাড় করা পয়সাওয়ালাদের পক্ষে সম্ভব। যাদের সামর্থ্য নেই—তারা শুরু করল সর্বজনীন পূজা—এখানে সবাই চাঁদা দেয়, সবাই প্রসাদ খায়। আরও দেখুন: যারা সত্যিকারের ভালো মানুষ তারা সত্যিই অনেক বিনয়ী যে কথা ইদানীং বেশ শোনা যাচ্ছে—ধর্ম যার যার উৎসব সবার। শোনা যাচ্ছে দুর্গাপূজা নাকি সর্বজনীন উৎসব। সংসদ অভিধান মতে, সর্বজনীন মানে সকলের পক্ষে হিতকর, সকলের জন্য কৃত অনুষ্ঠিত বা উদ্দিষ্ট। তো এখন সর্বজন বলতে কাদের বোঝাচ্ছে? রাজা-গজাদের পকেট থেকে বেরিয়ে সাধারণ হিন্দুদের অংশগ্রহণ—এ অর্থে সর্বজনীন হতে পারে। নিম্নবর্ণের হিন্দুরা মনসা পূজা ছেড়ে একটা দিন দেবী দুর্গার চেহারা দেখল—এ অর্থেও সর্বজনীন বলা যেতে পারে, কিন্তু দলে দলে মুসলিমরা পালে পালে পূজামন্ডপে যাবে—এমনতর সর্বজনীনতা কোথা থেকে আসল? মুসলিমদের ধর্মবিশ্বাসে মূর্তি পূজা হিতকর নয় মোটেই— ভয়াবহ ক্ষতিকর। অনন্তকালের জীবনে নরকে জীবন্মৃত অবস্থায় দগ্ধ হবার কারণ মাত্র।