|| ডেঙ্গুর রোগীকে চিকিৎসার পরিবর্তে ওঝা দিয়ে জাড়ফুঁক করানো হল, দেখুন কোথায়?   ||

|| ডেঙ্গুর রোগীকে চিকিৎসার পরিবর্তে ওঝা দিয়ে জাড়ফুঁক করানো হল, দেখুন কোথায়? ||

বাংলার খবর # দীর্ঘদিন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে বাড়িতে পড়ে ওঝা বদ্যির উপরে ভরসা করে চিকিৎসা চলছে রোগীর। এমনই দৃশ্য দেখা গেল দেগঙ্গার হরে কৃষ্ণ কুমার কলোনিতে। রোগীর নাম অনুপ সর্দার(৩৮)। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি পুকুর পাহারা দেওয়ার কাজ করেন। গত ১৭ দিন আগে পুকুর পাহারার কাজ ছেড়ে বাড়িতে ফিরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন সকাল থেকে তার শরীরে জ্বর দেখা যায়। স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করিয়ে তাঁর অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। অবশেষে রোগীকে নিয়ে দেগঙ্গা বিশ্বনাথপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকে চিকিৎসক বারাসাত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। মঙ্গলবার সকালে বারাসাত মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপরে মর্মান্তিক অবস্থা ওই রোগীকে বারাসাত হাসপাতালে না রেখে তাঁকে ছুটি দিয়ে দেওয় বলে অভিযোগ। এদিকে অর্থনৈতিক অভাব, পেপারের চালের ছাউনিতে বসবাস করেন তাঁর ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে অনুপ সর্দার।জ্বর আবস্থায় বাড়িতে পড়ে রয়েছে। ওঝা গুণীন দিয়ে দিনে নিয়ম করে ঝাড়ফুঁক চলছে। তবে এতে কিছুতেই তার শরীরের অবস্থা উন্নতি হচ্ছে না। রোগীর স্ত্রী আঙ্গুরবালা সর্দারের দাবি তার স্বামীর প্রেতাত্মা ভর করেছে। এর সঙ্গে জলের কোন সম্পর্ক নেই। ওঝা দিয়ে ঝাড় ফুঁক করালে তার স্বামী নাকি সুস্থ হয়ে উঠবে। তাই হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে বাড়িতে ফেলে ওঝা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। আজকের দিনে এই কুসংস্কার যে মানুষের মধ্যে বাসা বেধেছে তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত দেগঙ্গার এই ঘটনা। খবর পেয়ে বুধবার সকালে রোগীর বাড়িতে যান দেগঙ্গা ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক সুব্রত মল্লিক ও দেগঙ্গার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মফিদুল হক সাহাজি, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ এ কে এম ফরহাদ, দেগঙ্গা ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আনিসুর রহমান, চাঁপাতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হুমায়ুন রেজা চৌধুরী সহ বিডিও প্রতিনিধি দল। বিডিও সুব্রত মল্লিক জানান, অনুপ সরদারের স্ত্রী কিছুতেই তার স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করবেন না। কারণ তার স্বামীর উপরে প্রেতাত্মা ভর করেছে। এই কুসংস্কার মনোভাব নিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সামনে অনুপের স্ত্রী জেদ ধরে বসেন। সেই সময় তাকে কুসংস্কার মুক্ত করার জন্য বোঝানো হয়। বোঝেনোর শেষে দেগঙ্গা ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের সহযোগিতায় রোগীকে বারাসাত মহকুমা হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। এ বিষয় নিয়ে বারাসাত মহকুমা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোগীর রক্ত পরীক্ষা করে ডেঙ্গুর নমুনা পাওয়া গেলে তাকে কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে তাঁর পরিবারের লোক বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ওঝা দিয়ে ঝাড় ফুঁক করিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করে।