সৌদি খেজুরের বিচি থেকে চারা করা সৌদি আরবের খেজুর চাষ

সৌদি খেজুরের বিচি থেকে চারা করা সৌদি আরবের খেজুর চাষ

বাংলাদেশে সৌদি খেজুর চাষ সৌদি খেজুরের চাষ পদ্ধতি বাংলাদেশে সৌদি খেজুর চাষ সৌদি খেজুরের চাষ পদ্ধতি বাংলাদেশে সৌদি খেজুর চাষ সৌদি খেজুরের চাষ পদ্ধতি http://arabiankhejur.blogspot.com/201... http://arabiankhejur.blogspot.com/201... পৃথিবীতে প্রায় এক হাজারের বেশি খেজুরের জাত রয়েছে। সৌদি দেশগুলোতেই এ জাতের সংখ্যা চারশতকের বেশি। যেহেতু তাল ও লটকন গাছের ন্যায় খেজুরের পুরুষ-স্ত্রী গাছ আলাদা ভাবে জন্মায়, এ জন্য বীজ থেকে তৈরী গাছে প্রাকৃতিক ভাবে নতুন জাতের সৃষ্টি অহরহ হয়ে থাকে। তবে বীজ থেকে তৈরী চারায় প্রকৃত জাতের গুণাগুণ থাকেনা। ফল ধরতে বেশি সময় লাগে, ফলের পরিমাণ ও মান আশাপদ হয় না। যে সব জাতের খেজুরের জনপ্রিয়তা বেশি এগুলোর মধ্যে বারহি, মেডজল, সামরান, খাতরাই, জাহেদী, খালাস, মরিয়ম, নিমেশি, আনবারাহ, জাম্বেলী, শিশি, লুলু, সুলতানা, আজুয়া, ইয়াবনি, ডিগলিটনূর, আসমাউলহাসনা অন্যতম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,এ পর্যন্ত ১৭ টা আধুনিক উন্নত জাতের খেজুর কলম আমাদনী করে বিভিন্ন জেলায় বাগান সৃষ্টি করে যাচ্ছে। বংশ বিস্তার ঃ আরব দেশগুলো আগে পছন্দমত জাতের কান্ড থেকে গজানো সাকার বা চারা সংগ্রহ করে তা দিয়ে বাগান সৃষ্টি করতেন। এ ছাড়া বীজের চারা দিয়েও খেজুর বাগান সৃষ্টি করার প্রচলন ছিল। তবে অধুনা টিস্যুকালচার পদ্ধতি অবলম্বনে উন্নত জাতগুলোর প্রচুর কলম তৈরী করে তা ব্যবহার জনপ্রিয়তা অত্যাধিক হারে বেড়ে চলেছে। পুরানো পদ্ধতি অবলম্বনে কান্ড থেকে প্রাপ্ত চারা কম পাওয়া যেত। বীজ থেকে তৈরী চারার গাছে ফল দিতে প্রায় ৬ বছর সময় লাগে। খেজুর গাছের কান্ড থেকে প্রাপ্ত চারা এবং টিস্যুকালচারের মাধ্যমে তৈরী চারা রোপনের ৩ বছর পর থেকেই গাছে ফুল-ফল ধরা আরম্ভ করে। এখন টিস্যুকালচারের মাধ্যমে কোটি কোটি খেজুর চারা উৎপাদন কাজে কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত থাকার কারণে উন্নত জাতের বাগান সৃষ্টি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অন্যান্য দেশগুলোও এর সুফল ভোগ করছে। পরিতাপের বিষয় এদেশে ১৫-২০ বছর ধরে যারা সীমিত আকারে খেজুর চাষ করছে তা বীজের তৈরী চারা দিয়ে এতে ভাল জাতের প্রকৃত গুণাগুণ বজায় থাকে না। ফলের মান ও ফলন ভাল হয়না। খেজুর গাছে পরাগায়ন ঃ তাল, লটকন ফল গাছের মত খেজুর গাছের পুরুষ ও স্ত্রী গাছ আলাদা ভাবে জন্মে (ডায়োয়সিয়াস)। এ জন্য সুস্থ, বড় ও ভাল মানের খেজুর ফল প্রাপ্তির লক্ষ্যে সময়মত ফুটন্ত স্ত্রী ফুলের ছড়া বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ গাছ থেকে সংগৃহীত পরাগ রেনু দিয়ে সময় মত পরাগায়ন করা অত্যাবশ্যক। প্রথমত: সুস্থ সবল বড় আকারের পুরুষ গাছ ফুল দানে সক্ষম এমন গাছ থেকে পুরুষ ফুল সংগ্রহ করে সাধারণ ফ্রিজে (২০-৪০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায়) সংরক্ষণ করা হলে তা দু’ বছর পর্যন্ত পরাগায়নের কাজে ব্যবহার করা হয। সৌদি খেজুর গাছে প্রধাণত: জানুয়ারী-মার্চ মাসে ফুল ফুটে। উভয় প্রকার ফুলের কাঁদি একটা শক্ত আবরণ দিয়ে সুন্দর ভাবে ঢাকা থাকে। শুরু থেকে ফুল ফোটার স্তরে পৌঁছতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। আবরণের ভিতরে ফুল বড় হয়ে পরাগায়নের উপযোগী হলে বাইরের আবরণটা আস্তে আস্তে ফাটা শুরু হয়। এ অবস্থায় পুরুষ ফুলের কাদিটা ধারালো ছুরি বা সিকেচার দিয়ে অপসারণ করে নিয়ে খুব সাবধানে হালকা রোদে শুকিয়ে নিয়ে এ পরাগ রেনু (পাউডারের মত অতি ক্ষুদ্র কণা) সাবধানে আলাদা করে নিয়ে কাগজে মুড়িয়ে তা পলিথিন কভার দিয়ে ফ্রিজের নরমাল চেম্বারে সংরক্ষণ করতে হয়। এরপর স্ত্রী খেজুর গাছের ফুলের কাঁদি বড় হয়ে বাইরের শক্ত আবরণে ফাটল ধরা আরম্ভ করলে তা পরাগায়ন করার উপযোগী হয়। এ সময় ফাটল ধরা শক্ত আবরণ ধারালো ছুরি দিয়ে অপসারণ করে ছড়ার ভিতরের অংশ বের করে দামী নরম তুলি বা ব্রাশ দিয়ে সামান্য পরিমাণ পাউডারী পরাগ রেনু দিয়ে পরম আদরে স্ত্রী ফুলে এ পরাগ রেনু হালকা ভাবে ছুয়ে বা ঝেড়ে দিতে হয়। এছাড়া পুরুষ ফুলের দু’একটা ছাড়া স্ত্রী ফুলের আগায় বেধে রাখতে হয়। পরে ৫-৭ দিনের ব্যবধানে আরও দু’এক বার এ পরাগায়ন কাজ অব্যাহত রাখতে হয়। পরাগায়ন করা ফুলের ছড়া পাতলা ব্রাউন কাগজের ঠোঙ্গা দিয়ে হালকা ভাবে ঢেকে দিতে হয়। এর ৩-৪ সপ্তাহ পর আবরণটা সরিয়ে ফেলতে হয়। পরাগায়ন কালে ছড়ার কাছাকাছি খেজুরের ছুঁচালো কাঁটাগুলো সিকেচার দিয়ে অপসারণ করে নিলে কাঁটার আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কয়েক দশক আগে কৃত্রিম উপায়ে পরাগায়ন করার প্রচলন খুব কম ছিল। বাগানে আনুমানিক হারে (প্রতি ১৫-২০ টা স্ত্রী গাছের জন্য একটা করে) পুরুষ গাছ রাখার কারণে বাতাসের ও মৌমাছি বা উপকারী কীট পতঙ্গের মাধ্যমে পরাগায়ন কাজ সমধা হতো। এতে ৬০-৮০ % ফল ধরানো সম্ভব হত। http://khejurofarabia.blogspot.com/20... http://khejurofarabia.blogspot.com/20... http://khejurofarabia.blogspot.com/20...